সন্দ্বীপে হারামিয়া ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে কমিউনিটি ক্লিনিকের ওষুধ বিতরণে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক কালবেলার সন্দ্বীপ প্রতিনিধি সাংবাদিক মাহমুদ মান্না হত্যার হুমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সহকারী জহির সাংবাদিককে গলা কেটে হত্যার হুমকি দেন। এ সময় তিনি নিজেকে স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা দাবি করে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার (সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে) হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, স্টোর রুম থেকে এক অটোরিকশা চালক ওষুধ গাড়িতে তুলছেন। তবে ওই সময় স্টোরের দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য সহকারী ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল আহসান কেউই উপস্থিত ছিলেন না।
এ বিষয়ে হাসপাতালের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তখনও কর্মস্থলে আসেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামরুল আহসান নিয়মিত দায়িত্বে অনিয়মিত এবং নিজের ইচ্ছামতো অফিসে আসা-যাওয়া করেন।
ওষুধ বহনকারী অটোরিকশা চালক জানান, কামরুল আহসান তাকে ফোন করে স্টোরের চাবি নিয়ে ওষুধ বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে পৌঁছে দিতে বলেন। এ সময় ওষুধ হস্তান্তরের জন্য কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের বলেন, “আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
একই বিষয়ে দলের সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন ঠাকুর বলেন, “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের নিরপেক্ষভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাই।”
সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানস বিশ্বাস বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।”
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জনও জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।