সন্দ্বীপ নৌরুট, ঘোষণা ছাড়াই ভাড়া বাড়লো একলাফে ১০০ টাকা
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ নৌরুটে বহাল তবিয়তে রয়েছে সিন্ডিকেট — কেবল বদলেছে হাত। এবার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে অজুহাত দেখিয়ে নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটের ইজারাদারদের বিরুদ্ধে। আড়ালে সক্রিয় সিন্ডিকেটের কথা জানাচ্ছেন দ্বীপের বাসিন্দারা। তবে ঘাট কর্তৃপক্ষের দাবি, ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাট দিয়ে নৌরুট পাড়ি দিতে গিয়ে বাড়তি স্পিডবোট ভাড়া গুনতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। ওইদিন জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে স্পিডবোট ভাড়া ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ টাকা করা হয়েছে বলে জানান একাধিক যাত্রী। এ নিয়ে সারাদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ দেখা যায়।
দ্বীপের বাসিন্দারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর ঘাট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে বসে ভাড়া নির্ধারণ না করে মনগড়া ভাড়া আদায় করা একধরনের জুলুম। তাঁদের দাবি, তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়লে ভাড়া হয়তো ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে, কিন্তু কোনো ঘোষণা ছাড়াই একলাফে ১০০ টাকা বাড়ে কীভাবে?
সরেজমিনে ঘাটে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে পারেন, এই ভাড়া বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে একটি সিন্ডিকেট, যারা যাত্রীদের পকেট কেটে নিজেদের পকেট ভারী করতে এমনটি করেছে। অভিযোগ উঠেছে, সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ঘাট ইজারাদারেরই লোক এবং তারা ক্ষমতাসীন দলের কর্মী পরিচয়ে তৎপরতা চালাচ্ছেন।
তবে ভাড়া বৃদ্ধির কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি বলে দাবি করছেন ঘাট ইজারাদার।
এদিকে, যাত্রীদের তীব্র ক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে ভাড়া নির্ধারণে স্থানীয় সংসদ সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ইজারাদার ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এআরই/ওয়াইএ