সন্দ্বীপ নৌরুটের কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটের বোট মালিক
সন্দ্বীপ নৌ রুটের কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটের বোট মালিক যেন কসাই। যেভাবে পারছেন কেটে নিচ্ছেন জনগণের পকেট। মানছেন না সরকারি নৌ সংস্থা বিআইডব্লিউটিএর প্রজ্ঞাপন। বরং যাত্রীদের দুর্ভোগ তৈরিতে পেতে রেখেছেন ভিন্ন ফাঁদ। কারণ ছাড়াই বন্ধ স্পিডবোট, যাত্রীদের তোলা হচ্ছে ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কড় মালের বোটে। এমনকি সেই বোট মাঝপথেই ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম প্রতিদিনের অনুসন্ধান বলছে, এই দুর্ভোগের পেছনে শুধু বোট মালিক নয়— জড়িত আছেন খোদ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও।
জ্বালানি সংকটের অজুহাতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠক করে হঠাৎ ভাড়া বাড়িয়ে দেয় মেসার্স আরকে এন্টারপ্রাইজ এর পরিচালনাধীন বোট মালিক জগলুল হাসান নয়ন। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং তৎকালীন ইউএনও। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্পিডবোটের ভাড়া ২৫০ থেকে একলাফে ৩০০ টাকা। যেখানে লিটারপ্রতি জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে মাত্র ২০ টাকা। আর ফিটনেসবিহীন মালের বোটের ভাড়া ১২০ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০০ টাকা।
অনুসন্ধান বলছে, বিআইডব্লিউটিএর কোনো প্রজ্ঞাপন ছাড়াই কথিত নেতাদের ছত্রছায়ায় এই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। সূত্র বলছে, জনগণের পকেট কেটে অর্জিত অতিরিক্ত মুনাফার ভাগ যাচ্ছে বিভিন্ন নেতার পকেটে এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরেও
এবার সোমবার(১১ মে) বিআইডব্লিউটিএ প্রজ্ঞাপন জারি করে স্পিডবোটের ভাড়া জনপ্রতি ২৬০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। তাৎক্ষণিক কার্যকরের নির্দেশও দেওয়া হয় প্রজ্ঞাপনে। কিন্তু প্রজ্ঞাপন জারির ৩৫ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মানেননা বোট মালিক। সরকারি সংস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে তাদের মনমতো কারবার।
মঙ্গলবার(১২ই মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২৬০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ হওয়ায় স্পিডবোট বন্ধ রাখা হয়েছে। কাঠফাটা রোদে ঘাটে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন শত শত যাত্রী। বারবার আকুতি জানালেও ইজারাদারের মন গলেনি একটুও। শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের চিৎকার-চেঁচামেচিতে জনপ্রতি ২০০টাকায় ভাগ্যে জোটে একটি ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কড় মালের বোট। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস— কিছুদূর যেতেই ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে সেই বোট। প্রায় ৩০ মিনিট ভাসমান অবস্থায় থাকার পর সন্দ্বীপ থেকে একটি মালবাহী বোট এসে দড়ি বেঁধে যাত্রীসহ বিকল বোটটিকে টেনে গুপ্তছড়া ঘাটে নিয়ে যায়।
প্রজ্ঞাপন কার্যকর না করার বিষয়ে জানতে চাইলে বোট মালিক মেসার্স আরকে এন্টারপ্রাইজ এর সত্ত্বাধিকারী জগলুল হোসেন নয়ন বলেন, এই ভাড়ায় তাদের পোষাবে না। ডিসি অফিসে আবেদন করবেন ভাড়া আরও বাড়ানোর জন্য।
এদিকে এই হয়রানিতে ক্ষোভে ফুঁসছেন সন্দ্বীপের সাধারণ মানুষ। সচেতন তরুণরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন— নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর না হলে কঠোর আন্দোলনে নামবেন তারা।