নিজস্ব প্রতিবেদক, সন্দ্বীপ২৪:
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জ্বালানি তেলের সংকটের অজুহাতে সারা দেশের মতো সন্দ্বীপেও চলছে তেল নিয়ে ‘তেলেসমাতি’। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই অনেক পাইকারি দোকান তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। কোথাও সীমিত পরিমাণে বিক্রি হলেও ক্রেতাদের দীর্ঘ ভিড় দেখা যাচ্ছে। আবার কোথাও তেলের সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্যাকেজ বেঁধে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) সরেজমিনে সন্দ্বীপের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসব চিত্র দেখা যায়। যদিও শুক্রবার রাতেই ফেরিযোগে প্রায় ৯ হাজার লিটার তেল আসে সন্দ্বীপে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে দাবি করে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ক্রেতারা।
উপজেলার শিবেরহাট বাজারের ‘ফারুক অ্যান্ড সন্স’ নামের একটি তেলের দোকান সকালে তাদের ফেসবুক পেইজে তেল আসার ঘোষণা দেয়। এরপর থেকেই দোকানের সামনে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিক্রেতারা একপর্যায়ে প্রতি গাড়িতে সর্বোচ্চ ১ লিটার তেল বিক্রির নিয়ম চালু করেন। এতে ক্রেতারা অসন্তুষ্ট হলেও অনেকেই অন্তত কিছু তেল পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন।
এসময় একাধিক ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে বাড়তি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
তবে উপজেলার বেশ কয়েকটি দোকানে অভিনব কৌশলে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, শিবেরহাট ও ধোপারহাটের কিছু দোকানে তেলের সঙ্গে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে ক্রেতাদের। অকটেন নিতে হলে সেমাই, আলু, ডিম, বিস্কিটসহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে হচ্ছে। এতে এক লিটার অকটেনসহ একটি প্যাকেজের জন্য গুনতে হচ্ছে প্রায় ২৫০ টাকা।
‘সন্দ্বীপ২৪’-এর বিশেষ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, একটি সংঘবদ্ধ অসাধু ব্যবসায়ী চক্র অতিরিক্ত লাভের আশায় তেল মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। অনুসন্ধানে শিবেরহাট, কাজীপাড়া তেমাথা, ষোলশহর, কমপ্লেক্সসহ কয়েকটি বাজারের কিছু দোকানের নামও পাওয়া গেছে।
সন্দ্বীপজুড়ে জ্বালানি তেলের এমন সংকট ও অনিয়ম চললেও অসাধু সিন্ডিকেট দমনে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও চোখে পড়েনি। ফলে অসাধু চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।