নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে হাম। এক সপ্তাহে ১৭ জন শিশু হাম ও হামজনিত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে এই রোগের উপস্বর্গ নিয়ে ৬জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
আক্রান্তদের বয়স ১৫ মাসের কম। তবে এদের মধ্যে অধিকাংশই কক্সবাজার এলাকার বাসিন্দা। প্রায় তিন মাস আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম শনাক্ত হয় হাম। এরপর চট্টগ্রামজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়।
চিকিৎসকরা বলছেন, শিশু হাম আক্রান্ত হলে শরীরে জ্বর থাকবে। সঙ্গে সর্দি, কাশি, গায়ে র্যাশ উঠবে। চোখ লাল থাকবে। জ্বরের তিনদিনেই হামের লক্ষণগুলো দেখা যাবে। এ অবস্থায় আক্রান্ত শিশুকে নিয়ে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।
সন্দ্বীপেও বাড়াতে হবে সচেতনতা
দেশের বিভিন্ন এলাকায় টিকার সংকটের মধ্যে হাম সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এ পরিস্থিতিতে উপজেলা পর্যায়ে জরুরি ভিত্তিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
বর্তমানে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে হাম সংক্রমণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অবস্থায় টিকা না পাওয়া পর্যন্ত বিকল্প সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে জোর দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, শিশুদের ভিড় এড়িয়ে চলা, অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, জ্বর, সর্দি-কাশি ও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকার সংকট কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো না গেলে হাম পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। তাই স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
এফসি/সন্দ্বীপ২৪